লকডাউন এর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের ফোন অমিত শাহের!


দিল্লি: আগামী রবিবার শেষ হতে চলেছে চতুর্থ দফার লকডাউন এর সময়সীমা। বর্তমানের গণনা পরিস্থিতি কে বিচার করে লকডাউন আরো বাড়তে পারে কিনা এই বিষয়ে বৈঠক করেছেন ক্যাবিনেট সচিব রাজিব গৌবা। রাজিব কোথায় দিন রাজ্যের মুখ্য সচিবের সঙ্গে এবং স্বাস্থ্য সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি যে সমস্ত শহরগুলিতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ খুব বেশি সেই সমস্ত শহরের পরবর্তীতে সঙ্গেও বৈঠক করেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।

গত কিছুদিন ধরে যে পরিমাণে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে লকডাউন উঠিয়ে দিলে পরিস্থিতি সামলানো খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। লোকজন উঠিয়ে দেওয়া হলে প্রতিটি ঘরে ঘরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করছে বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ। কেন্দ্রের তরফ থেকে অবশ্য আগেই সংকেত দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম ধাপের লকডাউন চালু করার। এই বিষয়ে প্রতিটি রাজ্যের সঙ্গে আগে আলোচনা করবে কেন্দ্র তারপর নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগের লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার আগে প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু পরে অনেকেই বিরোধিতা করে বলেছেন তাদের শুধুমাত্র নামে মাত্র জানানো হয়েছে, সিদ্ধান্ত সব আগে থেকেই কেন্দ্র নিয়ে রেখেছে বলেও তারা জানিয়েছিলেন। এইবার তাই লকডাউন বাড়ানোর আগে প্রতিটি রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করবে কেন্দ্র সরকার। শনিবার রাজিব গৌবার বৈঠকেও এই নিয়েই আলোচনা করা হয়েছিল প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যসচিব দের সঙ্গে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলবেন এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আপডাউন বাড়ানোর ব্যাপারে কি ধরনের মত পোষণ করেন সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সূত্রে জানা যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নামের পক্ষে নাকি লকডাউন উঠিয়ে নেওয়ার পক্ষে সেই বিষয়ে তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।এছাড়া পঞ্চম দফার লকডাউন ঘোষণা হলেও কোন কোন বিষয়ে ছাড় থাকবে এবং কোন কোন বিষয়ে লকডাউন সম্পূর্ণভাবে প্রযোজ্য থাকবে তার তালিকা প্রতিটি রাজ্যেকে জমা দিতে হবে, বলা হয়েছে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে মুম্বাই দিল্লি কলকাতা শহর সহ প্রায় তেরো তিন রাজ্যে বেশিরভাগ সংক্রামিত রয়েছে। তাই সেই বিষয়ে নজর রেখে লকডাউন এর প্রতিবন্ধকতা গুলি রাজ্যকে এবং কেন্দ্রকে ঠিক করতে হবে। যে সমস্ত অঞ্চলে কোন ভাইরাসের সংগ্রামীদের সংখ্যা বেশি সেই সমস্ত অঞ্চলে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এই ধরনের অঞ্চলগুলিতে লোকেদের করানো হয় রেস্ট করাতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব খুব নিয়ম অনুযায়ী মানতে হবে।

উত্তর প্রদেশ বিহার পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্যে বাইরে থেকে হাজার হাজার শ্রমিক ঘরে ফিরছে। সেই সমস্ত শ্রমিকরা যে সমস্ত রাজ্য থেকে ঘরে ফিরছে সেই সমস্ত রাজ্যগুলির প্রধানত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা খুবই বেশি। তাই বাইরে থেকে আসা শ্রমিকদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন পালন করতে হবে। শ্রমিকরা চাইলে বাড়িতে হোম করে নাও ১৪ দিন থাকতে পারেন কিন্তু যদি তাদের কোনো উপসর্গ দেখা দেয় সেই ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক ট্রেন চালানো নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনো পর্যন্ত এক একটি জেলায় দশ থেকে তিরিশ হাজার পর্যন্ত শ্রমিক এসেছে অন্যান্য রাজ্য থেকে। সেই সমস্ত শ্রমিকদের প্রপার স্ক্রিনিং এবং মনে রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যগুলিকে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেছেন এত পরিমাণে শ্রমিকরা যে পাঠালে একসঙ্গে এত হাজার হাজার শ্রমিককে কোয়ারেন্টাইন কিভাবে করব। কুমুদিনী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলেছেন যে রাজ্যের করোনা কে নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছিল কিন্তু এখন যে সমস্ত শ্রমিক না বাইরে থেকে আসছে তাদের থেকেই আমার রাজ্যে করোনা ছড়াবে।

Post a Comment

0 Comments