Amazon

আম্ফান ঝড়ের মোকাবিলায় রাজ্যকে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস অমিত শাহের!


কলকাতা: করোনা ভাইরাস এর এই সংকটের পরিস্থতিতে উড়িশা এবং বাংলার বুুুুকে এক নতুন বিপদের ছাাায়য নেমে এসেছে। বাাংলা এবং উড়িষ্যার উপকূলবর্তী অঞ্চলে ধেয়ে আসছে আম্ফান নামক এক বিধ্বংসী ঝড়। করোনা মহামারীর জন্য দীর্ঘ দুই মাস ধরে চলছে লকডাউন। শ্রমিক এবং নিম্নবিত্ত খেটে খাওয়া লোকেদের খুব কষ্টেই দিন কাটছে। এই পরিস্থিতিতে  ঝড়ে তাদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ এই কঠিন পরিস্থিতিতে রাজ্যের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। অমিত শাহ জি ফোনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাথে কথা বলেছেন এবং সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। ঝড়ে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির দিকেও নজর রাখার কথা তিনি বলেছেন।

দীর্ঘ সময় ধরেই রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্ক খারাপ হয়ে ছিল। বিভিন্ন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বার বার অপরকে দোষারোপ করা হয়। কিন্তু এই বিপদের পরিস্থিতিতে গৃহমন্ত্রীর রাজ্যের পাশে থাকার আশ্বাস রাজ্য এবং কেন্দ্রের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা বদল আনতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই আম্ফণ ঝড়ের ওপর করা নজর রাখার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ঝড়ের এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন এবং ক্ষয়ক্ষতি যাতে কম হয় সেই দিকে নজর রাখার কথা বলছেন। এছাড়া ঝড়ে  যে সমস্ত এলাকায় ক্ষয় ক্ষতি হতে পারে সেই এলাকা গুলি দ্রুত জনশূন্য করার কথা বলেছেন।

অনেকে মনে করছেন বিপদ কেটে গেলে আবার এই ঝড়কে কেন্দ্র করেই রাজনীতি শুরু হবে। এর আগে সমস্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে কেন্দ্র থেকে অর্থ এসেছিল কিন্তু সেই অর্থ রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি বলে দাবি করেছিল বিজেপি সমর্থকেরা। রাজ্যের শাসক দল আবার উল্টো দাবি করেছিল যে তারা কেন্দ্র থেকে উপযুক্ত অর্থ পায়নি।

করোনা পরিস্থিতিতে এই দুর্যোগ বাংলা এবং উড়িষা এর উপকূলবর্তী অঞ্চলে বেশ ক্ষতি করবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বছর যে ঘূর্ণঝড়টি হয়েছিল তার গতিবেগ ছিল ১১০ কিমি প্রতি ঘণ্টার কিছু বেশি। কিন্তু তাতেও প্রায় ১০০০০ এর মত লোকের মৃত্যু হয়েছিল। এই বার যে ঝড় আসতে চলেছে তার গতিবেগ আগের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

ইতিমধ্যেই ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে। উপকূলবর্তী অঞ্চল গুলি থেকে লোকেদের শেল্টারে নিয়ে আসা হচ্ছে। সমুদ্রে মাঝিদের যাওয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা শহরেও এই ঝড়ের প্রকোপ কিছুটা লক্ষ্য করা যাবে। এছাড়া রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় সামান্য ঝড় সহ বৃষ্টিপাত হবে বলে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যবাসীকে সতর্ক করেছেন। তিনি বিপদগ্রস্ত অঞ্চলের লোকেদের বুধবার ঘরে থাকার অনুরোধ করেছেন। এছাড়া ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট কে বিপোদ গ্রস্ত এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে দ্রুত নিয়ে আসার জন্য বলেছেন। এছাড়া তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যের জোগানের বেপারে নজর রাখার কথা বলেছেন তিনি।

এই দুই রাজ্য ছাড়াও বাংলাদেশ এও ঝড়ের যথেষ্ঠ প্রকোপ লক্ষ্য করা যাবে। বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকাতে অনেক বেশি ক্ষয় ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রধানত ভারতের ওড়িসা, পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এবং বাংলাদেশের সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাতেই এই ঝড়ের প্রকোপ বেশি হবে। এছাড়াও ভারতের অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যে সামান্য বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments