Amazon

সম্পূর্ণ মাউন্ট এভারেস্ট চীনের, দাবি চাইনিজ মিডিয়ার!

মাউন্ট এভারেস্ট

ওয়েব ডেস্ককরোনা মহামারীর এই বিপদজ্জনক সময়ে আমেরিকা জাপান সহ বহু দেশ চীন কে করোনার সৃষ্টিকর্তা বলে অভিযোগ করে চলেছে। আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে করোনা ভাইরাস এর তথ্য লোপাট এর অভিযোগ ও করেছে। এই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

কিন্তুু এইবার চীন হয়ে উঠেছে ভারতের চিন্তার কারণ। অনেক কাল আগে থেকেই মাউন্ট এভারেস্টকে নিয়ে চীন আর ভারতের মধ্যে বিবাদ রয়েছে। অনেক দিন থেকেই এই বিবাদ সুপ্ত হয়ে ছিল। কিন্তু এইবার আবার তা তাজা হয়ে উঠল।
নেপাল-চীন সীমান্তে চুক্তি অনুযায়ী মাউন্ট এভারেস্টের উত্তর ঢাল চীনের দখলে থাকবে আর দক্ষিণ ঢাল থাকবে নেপালের দখলে। কিন্তুু গত ১ মাস থেকে চীনের সংবাদমাধ্যমে বার বার বলা হচ্ছে মাউন্ট এভারেস্ট সম্পূর্ণ চীনের। মাউন্ট এভরেস্টকে নেপালে বলা হয় সাগরমাথা, এটি সংস্কৃত নাম। চীনে স্থানীয় ভাষায় এভারেস্টকে ডাকা হয় চমলংমা নামে। কিন্তুু এর সর্বজনীন নাম মাউন্ট এভারেস্ট।

গত একমাস ধরে চীনের সমস্ত সংবাদমাধ্যম বলে আসছে এই পর্বতশৃঙ্গ সম্পূর্ণ তাদের। এবং সংবাদমাধ্যমে একবারও মাউন্ট এভারেস্ট নাম ব্যাবহার করা হয় নি, প্রতিবার চীনের স্থানীয় নাম চমলংমা ব্যাবহার করা হয়েছে। এই ঘটনাটি নেপালের বেশ চিন্তা বাড়িয়েছে।

মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিীবির সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এর উচ্চতা ৪৪৪৮ মিটার। কিছুদিন আগে চীনের একটি পর্বতারোহী দল মাউন্ট এভারেস্টের সঠিক উচ্চতা মাপার জন্য আরোহন আসে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ জনিত কিছু সমস্যার জন্য তারা এখনও আরোহন সম্পন্ন করতে পারে নি। কিন্তুু তারা সেখানে এভারেস্টের কিছু ছবি তোলে এবং সংবাদমাধ্যমে পাঠায়।

চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সি.জি.টি.এন কয়েকদিন আগে তাদের অফিসিয়াল পেজ থেকে এভারেস্টের ছবি গুলি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয় চীনের মাউন্ট এভারেস্টের সুন্দর দৃশ্য। কিন্তুু সেখানে একবারও চীন-নেপাল সীমান্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

এই খবর প্রকাশের পরেই চীন, নেপাল, ভারতের জনগণের মধ্যে টুইট যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সি.জি.টি.এন তাদের পেজ থেকে সেই পোস্ট টি দ্রুত ডিলিট করে দেয়। পরবর্তীতে তারা আবার সেই ফটো গুলি পোস্ট করে। একইরকম ভাবে পোস্ট করা হলেও এবার তারা চীন-নেপাল সীমান্তের এভারেস্ট বলেই পোস্ট করে।

চীন এভারেস্টের গায়ে কিছুদিন আগেই একটি ৫ জি টাওয়ার বসায়। এই টাওয়ারের মাধ্যমে এভারেস্টের চুড়ায় থেকেও ৫ জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার সম্ভব হবে। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয় এই মোবাইল টাওয়ারটি পর্বতারোহী দের সুবিধার জন্যই তৈরি করা হয়েছে, যাতে পর্বতারোহীরা বিপদে পড়লে সাহায্য করা যায়।

অপরদিকে এই মোবাইল টাওয়ার ভারত ও নেপালের জন্য চিন্তার বিষয় হতে দাঁড়িয়েছে। কারণ নেপাল সীমান্তে থেকেই চাইনিজ সিম ব্যাবহার করা যেতে পারে এই টাওয়ারের মাধ্যমে। চীন এটি সেনাবাহিনীর জন্যই তৈরি করেছে বলে অনেকে অনুমান করেছেন। তাছাড়া করোনা মহামারীর এই কঠিন সময়ে চীনের এই ধরনের কার্যকলাপ অনেকেই আশঙ্কাজনক চোখে দেখছেন।

বর্তমানে চীনের দখলে থাকা তিব্বত একসময় স্বাধীন ছিল। ভারতের সাথে বন্ধুত্বের সম্মতা বজায় রেখে চলতো। কিন্তুু চীনের দখলমূলক নীতির কারণে তিব্বত আজ চীনের দখলে। যদিও মাঝে মাঝেই তিব্বতকে চীন থেকে আলাদা করার জন্য তিব্বতে আন্দোলন হতে শোনা যায়।

চীন এই প্রথম নয় বহু আগে থেকে দখল নীতি অবলম্বন করে আসছে। চীন সারা বিশ্বে তার কূটনীতির জাল বিস্তারের মাধ্যমে বহু দেশকে তাদের কবলে জোর করে আটকে রেখেছে। এইবার মাউন্ট এভারেস্টকে কেন্দ্র করেও হয়তো চীন কোনো বড় চক্রান্ত রচনা করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Post a Comment

0 Comments