Amazon

কোচবিহার জেলার ২৪ টি এলাকা কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করলো প্রশাসন!


কোচবিহার: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর আগে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল তাতে জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি প্রভৃতি জেলাকে রেড জোনে রাখা হলেও কোচবিহার জেলা ছিল গ্রিন জোনে। কিন্তু বাইরে থেকে যে সমস্ত শ্রমিকরা  ফিরছে তাদের থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কোচবিহার জেলায়। গত ২৯ তারিখ কোচবিহার জেলায় একদিনে সংক্রামিত সংখ্যা হয় ৩২ জন। এই পয়ঁত্রিশ জনসংখ্যা নীতির মধ্যে ২৯ জন দিনহাটার। সাধারণত কোচবিহার ছিলা এতদিন যে স্বস্তি পরিস্থিতি বিরাজ করছিলো তার অবসান ঘটেছে এ ঘটনার মাধ্যমে। দিনহাটার এলাকার সাধারণ লোকেরা রয়েছে সব থেকে বেশি চিন্তায় কারণ সেখানেই সংক্রামিত সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।


এতদিন একটু স্বস্তি থাকলেও ২৯ মে সংক্রামিত সংখ্যা ৩২ হয়ে যাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কোচবিহার জেলার যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল সেই সমস্ত ছাড় গুলি উঠিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন সূত্রে। এছাড়া জেলায় করাকরি ব্যবস্থা নিতে হবে না হলে সংক্রামিত সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। কোচবিহার জেলায় সংক্রান্তির সংখ্যা এক দিনে ৩২ হয়ে যাওয়ার পর প্রশাসন কোচবিহারে ২৪ টি কনটেনমেন্ট ঘোষণা করেছে। এছাড়া এখন কোনো রকম গাফিলতি করা যাবে না কঠোর ভাবে সমস্ত নীয়ম পালন না করলে সংক্রমণ সংক্রামিত রোগীদের সংখ্যা কমানো যাবে না। জেলা যে সমস্ত কনটেনমেন্ট এলাকা ঘোষিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে দিনহাটার ১ নং ব্লকের ১১ টি এলাকা, দিনহাটার ২ নং ব্লকের ১০ টি এলাকা, সিতাই ব্লকের  ২ টি এবং তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের ১ টি এলাকা।


দিনহাটার ১ নং ব্লকের ১১ টি এলাকা কনটেনমেন্ট জোনের অন্তর্গত করা হয়েছে। এলাকা গুলি হলো:

  • বড়ো আটিয়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পিউলাগুরি
  • বড়ো আটিয়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের জি আটিয়াবারি
  • গিতালদহ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের গিতালদহ
  • গসানিমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের চাউলের কুঠি
  • গিতালদহ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের জরিধরলা
  • বড়ো সৈলমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের সিঙ্গিমারি
  • গসানিমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট নাটাবাড়ি
  • গোসানিমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম ঝিনাই
  • ওকরবারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বালাকান্দি
  • পেটলা গ্রাম পঞ্চায়েতের আলোকঝরি
  • পুঁটিমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্ণচিনা পুঁটিমারী

দিনহাটার ২ নং ব্লকের ১০ টি এলাকা কন্টেনমেন্ট জোনের অন্তর্গত করা হয়েছে। এলাকা গুলি হল:
  • চৌধুরীহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বালাবারি
  • বুড়িরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের জিতপুর
  • গবরচারা গ্রাম পঞ্চায়েতের পিকনিধারা
  • গবড়াচারা গ্রাম পঞ্চায়েতের তুটিয়ারকুঠি
  • নাজিরহাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম সৈলমারী
  • নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সেওড়াগুরি
  • নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকার পাড়া
  • নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মসালদাঙা
  • নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মেঘনারায়নের কুঠি
  • নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য মসালদাঙ্গা
সীতাই ব্লকের ২ টি এলাকা কন্টেনমেন্ট জোনে রাখা হয়েছে। এই গুলি হলো:
  • আদাবারিঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের মিহারপারা
  • চাতরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব পাহারবারি
তুফানগঞ্জ ব্লকের ১ টি এলাকা কনটেনমেন্ট জোনে রাখা হয়েছে। এই এলাকা টি হলো:
  • বলরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সরেয়ারপার
এই এলাকাগুলি কনটেনমেন্ট জোনে রাখা হলেও বিপদ কিন্তু শুধুমাত্র এই এলাকা গুলিতে সীমাবদ্ধ নয়। সমস্ত জেলাতেই করোনা ভাইরাস সংক্রমনের বিপদ রয়েছে। তাই সবাইকেই সচেতন থাকতে হবে। যদি সবাই সময় মতো সচেতন না হই তবে বিপদ সমস্ত জেলাতেই ছড়িয়ে পড়বে। তাই প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে লকডাউন উঠে গেলেও সংক্রামিত এলাকাগুলিতে ভালোভাবে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স পালন করা হয় এবং করোনা সংক্রামন রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। 

Post a Comment

0 Comments