Amazon

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সামনে পড়ে রইল মৃতদেহ!


কলকাতা: করোনা ভাইরাসের এই কঠিন পরিস্থিতিতে ফের বিতর্কে মধ্যে পড়েছে কলকাতা মেডিকেল কলেজ। গত ৪৮ ঘণ্টায় এরকম ঘটনা আরও একবার ঘটেছে বলে জানা যায়। মেডিকেল কলেজের সামনে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সূত্রে জানা যায় যে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা নাগাদ পেট্রোল তার বাবাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। সে জানায় যে তার বাবা শ্বাসকষ্টে ভুগছে। তিনি তার বাবাকে কলেজের জরুরি বিভাগে ভর্তি করতে বলেন। দীর্ঘক্ষণ বলার পরেও তাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়নি।

তত্ত্ব সূত্রে জানা যায় যে অনেকক্ষণ তার জন্য স্ট্রেচার পাওয়া যায় নি। তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন  এবং দীর্ঘক্ষণ অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন। অবশেষে তার জন্য স্ট্রেচার এর বেবস্থা করা হয় কিন্তু জরুরি বিভাগের কাউকে সেখানে দেখা যায় নি। গেট এর সামনেই স্ট্রেচারে পড়ে ছিল দেহ।

যখন জরুরি বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মী আসেন ততক্ষনে তিনি মারা গেছেন। তার মৃত্যুর কথা শুনে তার ছেলে খুব কান্নাকাটি শুরু করে। সে বলে যে তার বাবার মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি আনতে যাচ্ছে। কিন্তু বহু সময় পরেও সে ফিরে আসেনি। পরে ঘটনাটি কতৃপক্ষের কাছে জানানো হয়।

প্রায় ২ ঘন্টা মৃতদেহ পড়ে ছিল কলেজের সামনে। পরে মিডিয়ার কাছেও খবর পৌঁছে যায়। রাজ্যের মন্ত্রী নির্মল মাঝির কাছেও জানানো হয়। তিনি এই ঘটনার তদন্ত করার  কথা বলেছেন।  তিনি জানান রোগীর নাম ফোন নম্বর নেওয়া হয়নি। যাইহোক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

এই ঘটনার পরে বেশ বিতর্কে পড়েছে কলকাতা মেডিকেল কলেজ। কেনো আড়াই ঘণ্টা দেহ গেটের সামনে পড়ে ছিল এই প্রশ্নও করছেন অনেকেই। কতৃপক্ষের গাফিলতির জন্যই এরকম হয়েছে বলে অনেকেই আন্দাজ করছে।

এই প্রথম নয় আটচল্লিশ ঘন্টায় আরো একবার এই ঘটনা ঘটে। তাই মেডিক্যাল কলেজের কতৃপক্ষের গাফিলতির কথাই সামনে তুলে ধরেছেন অনেকে। মৃতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। কেনো মৃতদেহ এইভাবে ফেলে গিয়েছে তার ছেলে তারও তদন্ত হচ্ছে। মন্ত্রী নির্মল মাঝি জানান আপাদত মৃতদেহ ভিতরে রাখার বেবস্থা করা হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাসের এক দুর্যোগ চলছে। তার উপরে ওই ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট ছিল। এই জন্য কলেজের কতৃপক্ষে অনেকটা চিন্তিত। করোনা ভাইরাস এর ভয়েই রোগীর আত্মীয়ের এই ধরনের পলায়ন বলেও তারা মনে করছেন।

কলেজের আসে পাশের লোকেরাও আতঙ্কে রয়েছেন। তারা সন্দেহ করছেন ওই ব্যাক্তি করোনা আক্রান্ত তাই তার ছেলে তাকে ফেলে রেখে গেছে।  যাই হোক মন্ত্রী নির্মল মাঝি তাদের আশ্বস্ত করেছেন এবং খুব দ্রুত মৃত ব্যাক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছেন। 

Post a Comment

0 Comments