Amazon

রাজ্যে শ্রমিক ট্রেন চালানো নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!


কলকাতা: করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মাইগ্রেন্ট লেবাররা নিজের রাজ্যে ফিরতে আগ্রহী। বিভিন্ন জায়গা থেকে শ্রমিকেরা পায়ে হেঁটে বাড়িতে ফিরছিলেন এরকম খবরও পাওয়া যাচ্ছে। পরে কেন্দ্র শ্রমিকদের নিজের রাজ্যে বাড়িতে ফেরার জন্য শ্রমিক ট্রেন চালানোর কথা ঘোষণা করেছেন। এই শ্রমিক ট্রেন গুলির মাধ্যমে বহু পরিযায়ী শ্রমিক নিজের রাজ্যে ফিরে আসছে।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরে আসলে ভাইরাস এর প্রভাব বৃদ্ধি পাবে এই আশঙ্কা করছে রাজ্য সরকার। তাই রাজ্যের শ্রমিক ট্রেন পাঠানোর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন এত শ্রমিককে একসাথে কয়ারেন্টেন করার মত কোরেন্টিন সেন্টার এখনো রাজ্যে নেই। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারকে জোরালো কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

গত বুধবার রাজ্যে ১১ টি শ্রমিক পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার যেগুলোতে এই রাজ্য থেকে বিভিন্ন রাজ্যে কাজে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরেছেন। কিন্তু এবার বাইরে থেকে আসা ট্রেনগুলো হাওড়া বোতলে আসছে এনজেপি তে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের শ্রমিকরা অর্ধেক রাস্তায় ট্রেনের চেন টেনে লাইনে নেমে পড়ছেন। এর ফলে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন এবং রেল কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্র সরকার গঠন করেছেন এবং বলেছেন রাজ্যের কোভিদ-19 নিয়ন্ত্রণে এসে পড়েছিল, কিন্তু এখন যে পরিমাণে শ্রমিক ট্রেনে ঠাসা ঠাশী করে পাঠানো হচ্ছে তাতে করে ভাইরাস সংক্রমণ রুখে রাখা যাবে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো কটাক্ষ করে বলেছেন যে যে পরিমাণে রাজ্যে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার আছে তা যথেষ্ট। কিন্তু একসঙ্গে এত শ্রমিক আসলে তাদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে জায়গা দিতে আমি অক্ষম। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নিক। তিনি এখানে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের দায়িত্ব নিক এবং করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা আমাদের জানান। এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই মুখ্যমন্ত্রী যথেষ্ট চড়া মেজাজে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেছেন।

আজকে রাজ্যে আরও ১৭ টি স্পেশাল পরিযায়ী শ্রমিক ট্রেন আসার কথা। ট্রেন গুলি রাজ্যে এসে পৌঁছালে শ্রমিকদের নিয়ম মেনে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন থাকতে হবে। শ্রমিকদের 14 দিনের কোয়ারেন্টাইন করানো এবং তাদের থার্মাল স্ক্রিনিং করে এছাড়া রোগ নির্ণয় করার সমস্ত দায়িত্ব রাজ্য সরকারকে পালন করতে হবে। শ্রমিকরা চাইলে নিজের বাড়িতেও কোয়ারেন্টাইন পালন করতে পারে।

এছাড়া আমফান ঝড়ের কারণে বাংলার প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। বাংলায় ১২ জন লোক মারা গিয়েছে এবং বহু ঘরবাড়ি ঝড়ে উড়ে গিয়েছে। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি ও ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন। এই কয় কোটি খতিয়ে দেখে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। ভিডিও মুখ্যমন্ত্রী তা মানতে নারাজ এবং তিনি বলেছেন এ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এত বড় ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে  কিছুই হবেনা। এই টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে গেলে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত অবস্থা হবে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করেছেন।

Post a Comment

0 Comments