Amazon

চীন ছেড়ে আসা বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোকে দেশে টানতে আগ্রহী কেন্দ্র !


দিল্লি: বর্তমানে সারা বিশ্বে করোনা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান সহ বেশ কিছু দেশ এই পরিস্থিতির পিছনে চীন এর চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার চীনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।তিনি অভিযোগ করেছেন যে চীনের কাছে করোনার সম্পূর্ণ তথ্য থাকা সত্ত্বেও তা চীন লুকিয়ে গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনে থাকা সমস্ত মার্কিন সংস্থাগুলিকে চীন থেকে সরে আসতে বলেছেন এবং তাদের অন্য কোনো বিকল্প বেছে নিতে বলেছেন। জাপানের প্রেসিডেন্ট ও তার দেশের বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে চীন থেকে সরে আসতে বলেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে এক বড় আর্থিক প্যাকেজও ঘোষণা করেন। তিনি ঘোষণা করেন যিনি থাকা জাপানি সংস্থাগুলি জাপানি শিল্প গড়ে তুললে প্রত্যেকটি সংস্থাকে 15 হাজার কোটি টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হবে।

 সেই সংস্থা গুলি চীন থেকে সরে এসে অন্য কোন দেশে শিল্প গড়ে তুললে তাদেরও নির্দিষ্ট পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হবে। কিন্তুু সংস্থাগুলি চীন থেকে উঠে না আসলে তাদের এই ভর্তুকি দেওয়া হবে না।এছাড়া ভারতও চীনের সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি বন্ধ করে দিচ্ছে। কিছুদিন আগেই ভারত চীনের সাথে বর্ডার ট্রেড চুক্তিতে হাওয়া শর্তগুলি মানতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। ভারত এবং চীনের মধ্যেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে এর মাধ্যমে।

এই সময় সংস্থাগুলি যদি চীন থেকে উঠে আসে তাহলে তারা এমন দেশ বেছে নেবে যেখানে উপযুক্ত জায়গা রয়েছে এবং কম পারিশ্রমিকে যথেষ্ট পরিমাণ শ্রমিক পাওয়া যাবে। অর্থাৎ তারা সেই সমস্ত দেশেই তাদের শিল্প গড়ে তুলতে চাইবে যেখানে জায়গা এবং শ্রমের মূল্য কম।

 এক্ষেত্রে প্রথমেই উঠে এসেছে ভারতের নাম।  ভারতে প্রচুর পরিমাণে শ্রমিক রয়েছে যারা খুব কম পারিশ্রমিকে কাজ করতে পারবে। এছাড়া ভারতে শিল্প গড়ে তোলার জন্য জায়গাও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। শিল্পের জন্য যে সমস্ত প্রকৃতিক বা সামাজিক অবস্থান দরকার সে সমস্ত বেবস্থা ভারতে উপযুক্ত পরিমাণে রয়েছে।

এই সমস্ত সংস্থাগুলি ভারতে আসলে ভারতের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। তাই দেশের সরকারও এই সংস্থাগুলিকে দেশে আনতে তৎপর হয়ে পড়েছে। এই সংস্থা গুলি দেশে আসলে দেশের বেকার সমস্যা যথেষ্ট পরিমাণে কমবে। দেশে কাজের অভাব দূর হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে কাজ উপযুক্ত থাকবে।

ইতিমধ্যেই দেশের সরকার এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দেশে আনার জন্য সাড়ে চার লাখ হেক্টরের বেশি জমি চিহ্নিত করেছে। শুধুমাত্র মার্কিন সংস্থা এবং জাপান সংস্থাগুলি নয় আরব এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু সংস্থা ও ভারতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দেখিয়েছে। যত দ্রুত জমির ব্যবস্থা করা যাবে তত ভারতের লাভ হবে বলে অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন।

ভারতের ইনভেস্ট ইন্ডিয়া সংস্থা ইতিমধ্যেই জাপান আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ মহারাষ্ট্র গুজরাট এবং উত্তরপ্রদেশে সংস্থাগুলি স্থাপিত হতে পরে বলে জানা যায়। আশা করা যায় খুব দ্রুতই এ সংস্থাগুলি ভারতে বিনিয়োগ করবে যার ফলে ভারতের অর্থনীতি আগের তুলনায় আরো ভালো হবে তার সাথে দেশের বেকার সমস্যাও অনেকটা কমবে।

Post a Comment

0 Comments