Amazon

কোচবিহার জেলায় করোনা আক্রান্ত ৮৭ জন, নতুন করে সংক্রমিত ১৮ জন!




কোচবিহার: এতদিন পর্যন্ত স্বস্তিতে থাকলেও এখন খুবই শঙ্কার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে কোচবিহার বাসী। লকডাউন এর শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত কোচবিহার শহর ছিল গ্রিন জোনে। আশেপাশের কয়েকটি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হলেও কোচবিহার শহরের বাসিন্দারা এতদিন কিছুটা স্বস্তি তেই দিন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে বদলে গেল শহরের চেহারা। এক সপ্তাহের মধ্যেই কোচবিহার জেলার করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দারাল ৮৭ জন।



এতদিন পর্যন্ত কোচবিহারে কোনো সংক্রমণ ছিল না কিন্তু প্রথম সংক্রমনের খবর পাওয়া যায় মুম্বাই থেকে আসা এক ক্যান্সারে মৃত ব্যাক্তির শরীরে। ওই ব্যাক্তি বাংলাদেশের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ক্যান্সার চিকিৎসার জন্যে তার বাবা মার সঙ্গে ভারতে এসেছিল। যানা যায় গত ১ বছর থেকে তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু কোন হেরেছে কারণেই লকডাউন হয়ে যাওয়ার জন্যে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায় ফলে সে মুম্বাই থেকে কোচবিহারে তার আত্মীয়র বাড়িতে ফিরতে বাধ্য হয়। কিন্তু কোচবিহারে আসার পথেই তার মৃত্যু হয়ে যায় পরে কোচবিহার মেডিকেল কলেজে তার লালা রস পরীক্ষা করা হলে জানা যায় যে তার দেহে কোন ভাইরাস পজিটিভ ছিল।




এরপরে যদিও সংক্রমনের খবর পাওয়া যায়নি কিন্তু গত ২৯ জুন একদিনে ৩২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা দেয়। সংক্রামিত দের মধ্যে ২৯ জন দিনহাটার বাকি তিনজন জেলার অন্যান্য এলাকার। এরপর থেকেই ভীত হয়ে দিন কাটাচ্ছেন কোচবিহার বাসী। ভাইরাস সংক্রমণ এখানেই থেমে থাকেনি ৩০ জুন সংক্রামিত হয়ে পড়ে জেলার প্রায় ৩৭ জন। ৩১ জুন দুপুর পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী সংক্রামিত এর মোট সংখ্যা ছিল ৬৯ জন।


কোচবিহার জেলায় সংক্রামন লাফালাফি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন জেলায় সংক্রমনের সংখ্যা মোট ৬৯ জন। দুপুরের পর থেকে ওই দিন রাত পর্যন্ত আরো মোট 18 জন সংক্রামিত হয়। অর্থাৎ কোচবিহার জেলায় বর্তমানে সংক্রামিত সংখ্যা ৮৭ জন। কোচবিহারের সব থেকে বিপদে রয়েছে দিনহাটা ব্লক। কোচবিহার জেলায় সংক্রামিত সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলায় ২৪ টি এলাকা কে কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে দিনহাটা 1 নং এবং 2 নং ব্লকের প্রায় 21 এলাকা কনটেনমেন্ট জোনে রয়েছে।


‌দিনহাটা ছাড়াও সিতাই এর দুইটি গ্রাম এবং বলরামপুর এর সরায়ারপার এলাকা কনটেন্মেন্ট জোনের মধ্যে রয়েছে। শুধুমাত্র কন্তেন্মেন্ট জোনেই নোয় সমস্ত জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনা আতঙ্ক। কোচবিহারের সিতাই, দিনহাটা, পুন্ডিবারি আরো কয়েকটি এলাকায় বেশ ভয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে কভিড-১৯ । এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু এলাকায় সোসিয়াল ডিস্টেন্স একদম মানা হচ্ছে না। লকডাউন চলাকালীন অবস্থাতেও সেই সমস্ত এলাকায় এবং প্রধানত বাজার গুলিতে সাধারণ লোকেরা খুব ভিড় জমাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন তুলেদেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন তুলে দেওয়া হলেও বিপদ কিন্তু রয়েই গিয়েছে। যদিও লকদাউন এ সমস্ত বিষয়ে চার দেয়নি প্রশাসন। বিশেষ কিছু ক্ষেত্র যেখানে ভিড় খুব বেশি এবং রোগ সংক্রমণ হতে পারে সেই সব ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রক্ষা করবে প্রশাসন। এছাড়া স্কুল কলেজের ছুটিও ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। শুধুমাত্র প্রশাসন নয় সাধারণ জনগণকেও যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে এবং রোগ সংক্রমণ রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

Post a Comment

0 Comments